রম্য কবিতা জরুরী প্রয়োজন -মনোজিৎ কুমার


 রম্য কবিতা

জরুরী প্রয়োজন
মনোজিৎ কুমার **********************************************




"যাচ্ছ কোথায়? ও মেজ কা, একটুখানি থামো। দেশে এখন লকডাউন চলছে এই কথা কি জানো?" মেজ কা কয়, "ও ভাতিজা, কাছে আইসে শোন্, হাটে আমার না গেলে নয়, ভয়ংকর জরুরী প্রয়োজন। লকডাউন চলছে লকডাউনের মতো, তাতে আমার কী? বিড়ি কিনবো, গুল কিনবো, সাথে পঁচিশ গ্রাম ঘি। ঘি দিয়ে কফি খাওয়া ছোট্ট নাতিটার বড্ড সাধ। দাদু হিসেবে জোগাড় না করাটা নয় কি অপরাধ? ঘরে যদি গুল না থাকে তোমার কাকী কথা কয়না, বিড়ি না টানলে আমার আবার হাগু কিল্লার হয়না।" "সে না হয় বুঝলাম কাকা, তবে কাকি কেন সাথে? কখনো তাকে দেখিনি তো যেতে তোমার সাথে হাটে!" পানের পিক ফেলে কইলো কাকী, "কি আর কবো তোর বেয়াইয়ের বাড়ি না গেলে নয়, তার শালীর নাকি জ্বর। বেয়াই আমার মস্ত মানুষ, ভয়ংকর-বিশাল বড় তার মন, এই দুর্দিনে তার পাশে দাঁড়ানোটা খুব জরুরী প্রয়োজন। বিপদ-আপদে মানুষ যদি না দাঁড়ায় মানুষের পাশে! স্বার্থপরের মতো একলা বাঁচার কি বা মানে আছে? পথে যদি আর্মি-পুলিশ কিছু জিগায় আমার কাছে, কবো-জরুরী প্রয়োজনে বের হবার আইন দেশে আছে। কত রোগজীবাণু আইলো দেশে, চলেও সেসব গ্যাছে, আমার কিচ্ছু হবেনানে,কোমরে মান্দুলি-তাবিজ আছে। উপরওয়ালার ভরসায় চলি তাই নই আমি ভীতু লোক, মরন যদি হয় তবে তা বেয়াইয়ের বাড়িতেই হোক।" "যেতেই যখন হবে তবে দুজনে দুটো মাক্স কিনে নাও।" কাকা কয়, " আবার চল্লিশটে টাকা খরচ কেন ফাও। মরন তার সে দিন হবে যেদিন যার কপালে লেখা আছে, তালিপরে শুধু শুধু পয়সা খরচের দরকার কি আছে? ভাতিজা, হিসেব করে খরচ করি হয়না তাতে মোর ভুল, ঐ টাকায় আরো দু পেক বিড়ি হবে সাথে ৪ পাতা গুল।" বিঃদ্রঃ লকডাউন আমার মতো কিছু 'সিজনাল কবি' পয়দা করেছে। সাহিত্যে যেমন 'যুগসন্ধিক্ষনের কবি', 'নবজাগরনের কবি' ইত্যাদি খেতাব আছে। তেমনি এসব কবিদের 'লকডাউনের কবি' হিসাবে আখ্যায়িত করা হোক।
মনোজিৎ কুমার, ৩৫ তম বিসিএস
প্রভাষক, (অর্থনীতি) তালা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা,

Comments

Popular posts from this blog

বঙ্গবন্ধু, অবিনাশী তর্জনী: মুস্তফা কামরুল আখতার

টেকসই উন্নয়নে মূল্যবোধ: মোসলেম উদ্দিন